Uncategorized

মাতৃস্নেহ

OLYMPUS DIGITAL CAMERA

OLYMPUS DIGITAL CAMERA

আমার ব্যালকনির ঠিক মুখোমুখি যে ফ্ল্যাটটার ব্যালকনি সেখানে একটা ময়ূর ডিম পেড়েছে কিছুদিন হল। ডিম পাড়ার আগে থেকেই কয়েকবার ওড়াউড়ি করেছে সঠিক জায়গা নির্বাচনের জন্য। ঐ ফ্ল্যাটে কেউ থাকেনা, প্লাস তার উপর নীচের ফ্ল্যাটগুলোও বাসিন্দাশূন্য। প্রতিবারই শান্তনু আমার আগে ময়ূরটাকে লক্ষ্য করেছে, দুর্ভাগ্যবশত আমরা একবারও পাখিটাকে উড়ন্ত অবস্থায় দেখতে পাইনি – অত্তবড় একটা প্রাণী আকাশে উড়ে উড়ে সাত তলার নির্জন ফ্ল্যাটে এসে বসবে দৃশ্যটা মনে মনে কল্পনা করতেই বেশ রোমান্ঞ্চ লাগছিল কিন্তু। যাই হোক, সে ময়ূর অবশেষে ডিম দিয়েছে, আর তার অব্যবহিত পরেই দিল্লিতে জোরদার বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বৃষ্টির ছাটে অস্হির আমরা যখন দরজা বন্ধ করতে দৌড়োই এঘর ওঘর, ময়ূর দেখি বৃষ্টির মধ্যে মাথা নীচু করে ডানা গুটিয়ে ডিমে তা দিয়ে যাচ্ছে। মাঝখানে বেশ পরপর কিছুদিন ঝমঝম বৃষ্টি চলল, চতুর্দিক জলমগ্ন – আমরা ভাবলাম ময়ূর তো মাথা তোলেনা, এদিক ওদিক তাকায়না, ওটা যে ময়ূর সেটা ওকে দেখে বোঝা পর্যন্ত যাচ্ছেনা, কেমন একটা তাল তাল মাংসপিণ্ড কালো চাদরের মত ছড়িয়ে আছে যেন। আজ সকালেও বৃষ্টি হল, এবার ঝলমলে রোদ উঠেছে। ব্যালকনিতে দাঁড়ালাম। দেখি, ময়ূর মাথা তুলে বাঁ দিকটা দেখল একবার। তারপর নৈঋৎ দিক। অতঃপর নিশ্চিন্ত সন্ন্যাসীর মতো আবার ধ্যানমগ্ন। ডিম ফুটে বাচ্চা না বেরোনো পর্যন্ত আমাদের সামনে সন্ন্যাসীকে দেখব। সামনে থেকে এর আগে বিড়াল, কুকুর আর টিভিতে বাঘের মাতৃস্নেহ দেখেছি, ময়ূরেরটা এই প্রথম। উদ্ভিদজগৎ সম্পর্কে নিশ্চিত নই, তবে ভালোবাসা জিনিসটা মনে হয় প্রাণীজগতের অবিচ্ছেদ্য পরমাণু।

Advertisements
Standard

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s