Uncategorized

সীতানবমীর পরিপ্রেক্ষিতে…

Sita3.jpgইতিহাস আর অঙ্কে একটা দারুণ সাদৃশ্য আছে। সেটা হল এই দুটো বিষয়ের প্রতিই সাধারণভাবে ছাত্রছাত্রীদের গভীর উষ্মা। আমারও তাই হত ছাত্রাবস্হায়, যতদিন না পর্যন্ত বাধ সাধল নবম শ্রেণী থেকে ভারপ্রাপ্ত ইতিহাস শিক্ষিকার ব্যতিক্রমী পড়ানোর পদ্ধতি। ক্লাসে ঢুকে, বইটা টেবিলের ওপর রেখে কোন chapter পড়ানো হবে mark করে বইটা বন্ধ করতেন। চোখটা বন্ধ করতেন তারপরে। তাঁর একটা পা অন্য পায়ের ওপর ভাঁজ করে রাখা আর মুখমন্ডলে শান্তি। শুরু করতেন গল্পের আদলে না-দেখা সময়গুলোর আশ্চর্য বর্ণনা, যেন পুরো class টা কোন এক যাদুমন্ত্রে কয়েকশো বছর পিছিয়ে গেছে আর black board, chalk, কাঠের টেবিল চেয়ার বদলে সেখানে দেখা যাচ্ছে পুরনো দুর্গ, চকচকে তলোয়ার, বিস্তীর্ণ জঙ্গল। বৌদ্ধধর্ম সম্পর্কে আমার আকর্ষণের সূত্রপাত সেখান থেকেই। বড় হওয়ার পর আরও অনেক অজানা জানলা খুলে গেল। ক্রমশঃ দেখতে পেলাম হিন্দুধর্মের ফাঁকফোঁকর। বোঝার চেষ্টা করলাম কেন হিন্দু দলিতের ঘরে জন্মানো আম্বেদকর বলেছিলেন যে, জন্ম তো আমাদের হাতে নেই। তাই কে কি ধর্ম নিয়ে জন্মাব তার উপর আমাদের নিয়ন্ত্রণও নেই। কিন্তু নিয়ন্ত্রণটা আছে কে কি ধর্ম নিয়ে মরব তার ওপর। বাবাসাহেব নিজের কথা রেখেছিলেন। মৃত্যুর আগে বৌদ্ধধর্মে দীক্ষিত হন তিনি। তাঁর ক্ষোভ কতটা যুক্তিযুক্ত ছিল তা Riddles in Hinduism পড়লেই বোঝা যায় যেটাকে অটলবিহারী বাজপেয়ী প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন ban করে দেন। করাই তো স্বাভাবিক কারণ তাতে সনাতন হিন্দুধর্মের ২৪ টা অযৌক্তিকতা, কিছু মিথ্যে আর কয়েকটা গোঁড়ামি জলজ্যান্ত স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে। যেমন ধরুন সেই Riddle টি যেখানে বেদের উৎপত্তি আর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে একগাদা সন্দেহ ধরা পড়ছে, বাবাসাহেব নিজেই অন্তত এমন ১১ খানা বেদের সন্ধান দিয়েছেন যার জন্য বেদকে আর যাই বলা যাকনা কেন ‘চিরন্তন’ বলা যায়না কোনমতেই। অঙ্কে দারুণ মাথা বাবাসাহেব এটাও দেখিয়েছিলেন যে হিন্দুশাস্ত্রের কথামত ভগবান ব্রম্মা যদি বেদ সত্যিসত্যি লিখে থাকেন তবে ঘটনাটি ঘটার কথা প্রায় ৩০০ ট্রিলিয়ন বছর আগে। ওদিকে Astrophysics চোখ গোলগোল করে বলছে এই পুরো বিশ্বব্রম্মান্ড জন্মেছে মাত্র ১৩ বিলিয়ন বছর আগে। তাহলে তো বেদ লেখা হয়েছে বিশ্বব্রম্মান্ড সৃষ্টি হওয়ারও ২৫০০ গুণ আগে। এমন মজার কথা আপনি এর আগে শুনেছেন ?

আর এসব ছাড়াও হিন্দুধর্মের আরেকটা বিরক্তিকর দিক আছে। সেটা হল রামকে নিয়ে অতিরিক্ত লাফালাফি। পুরুষোত্তম সেই রাজাটি লঙ্কাজয়ের পর দিব্যি ভাবলেশহীন মুখে নিজের স্ত্রীকে বলেছিলেন – “I’ve got you as a prize in a war after conquering my enemy, your captor..I’ve recovered my honour and punished my enemy. I came here to kill Ravana & wash off the dishonour. I didn’t take this trouble for your sake. I suspect your conduct. You must have been spoiled by Ravana. Your very sight is revolting to me. I can’t think that Ravana would have failed to enjoy a woman as beautiful as you are.”

তারপরের কথা সবাই জানে। যেমন সীতাকে নানাবিধ পরীক্ষা নিরীক্ষা আর তারপরও শেষে single mother হিসেবে তাঁর লব কুশকে প্রতিপালন। আজও সবাই রামনবমী ধুমধামসহ পালন করে। তালের বড়া বানানো হয় বাড়ীতে বাড়ীতে। সীতানবমী নিয়ে কিন্তু তেমন কোন হেলদোল দেখিনা। যেমন আজ সীতানবমী। অথচ দিব্যি চুপচাপ চারদিক।

Advertisements
Standard

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s