Uncategorized

স্বাধীনতা দিবস

11898802_958580580831435_7282473126367371533_n.jpgআজ স্বাধীনতা দিবস। প্রত্যাশামতোই চারদিকে বেশ একটা উৎসব উৎসব ব্যাপার। রবিনা ট্যান্ডন আর মনোজ বাজপেয়ীর একটা শর্ট ফিল্মতো ফেসবুকে বেশ trending হচ্ছে বিগত কয়েকদিন ধরেই পরাধীন ভারতবর্ষে জন্মালে আমাদের কি দুর্ভোগ হত তার ওপর। স্বাধীন ভারতে জন্মে অবশ্য ঠিক কতটা সৌভাগ্য হয়েছে সে নিয়ে সন্দেহ আছে। যদিও একালের কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পূর্বপুরুষ মহাত্মা গান্ধী আর নেহরুকে আজ বিভিন্ন বক্তৃতায় প্রচুর সম্মানজ্ঞাপন করা হবে। অনেকেই হয়তো আমাকে মনে মনে তুলোধনা করবেন যদি বলি স্বাধীনতার জন্যে হিটলারের প্রতি কিছুটা হলেও আমাদের কৃতজ্ঞ থাকা দরকার কারণ উনি এমনিতে যতই অপকর্ম করে থাকুন না কেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইংল্যান্ডের অর্থনীতি এমন নষ্ট করে দিয়েছিলেন, যে বাপ বাপ বলে আমাদের স্বাধীনতা দেওয়া ছাড়া ইংরেজদের হাতে আর অপশন্ ছিলনা, আরও স্পষ্টভাবে বললে ব্রিটেনের দশা এতটাই খারাপ করেছিলেন হিটলার যে মার্শাল প্ল্যানের গোটা ত্রাণ তহবিলের এক চতুর্থাংশই শুধু তাদের পেছনে খরচ হয়েছিল। অতএব পুরো ধসে যাওয়া অর্থনৈতিক অবস্হা নিয়ে ভারতসহ অন্যান্য উপনিবেশগুলোয় মিলিটারি শাসন ব্রিটেন চালিয়ে যেতে পারতনা। তাই গান্ধীজির আইন অমান্য বা ভারত ছাড়ো ডাকের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, এই আন্দোলনগুলো না হলেও আমরা স্বাধীনতা পেতামই। ঠিক যে কারণে জর্ডন, প্যালেস্টাইন, শ্রীলঙ্কা ইত্যাদি দেশগুলোকেও প্রায় সমসাময়িক স্বায়ত্তশাসন দিতে বাধ্য হয়েছিল ব্রিটিশ পার্লামেন্ট।

কিন্তু সেটা কথা না। কথা হল, আমরা কি সত্যিই স্বাধীন হলাম ?  সেই মেয়েটা কি স্বাধীন যে অফিস থেকে বেরোতে দেরী হলে রাতের অপেক্ষাকৃত ফাঁকা রাস্তায় একা হাঁটতে ভয় পায় ? বা, সেই মেয়েটা স্বাধীন যাকে বিয়ের পরে হাতে, মাথায় বাধ্যতামূলক বিবাহচিহ্ন পরতে হয় অনিচ্ছা সত্ত্বেও ? অথবা সেই মেয়েটার কথা ধরুন যে চাইলেও বেশী মা বাবার কাছে যেতে পারেনা কারণ শ্বশুরবাড়িতে তাঁর অনেক কর্তব্য আছে। ভালো আয় করছেন কিন্তু single mother হিসেবে বাচ্চা প্রতিপালনে এখনও সামাজিক  হয়রানির সন্মুখীন হচ্ছেন প্রচুর মহিলা। বিয়ে বয়ফ্রেন্ড বা লিভ টুগেদার হলেও চলবে, তবু ‘আমার সাথে একজন পুরুষ আছে’ – এই সামাজিক সুরক্ষাকবচ আজও তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোয় ঝুলছে। আর শুধু মেয়েরাই কেন, পুরো জনসংখ্যার একটা বিশাল অংশ কি আজও স্বাধীন ? শিশু যেমন অভিভাবকের উপর নির্ভরশীল, গরীব মানুষেরা তেমন নেতা নেত্রীর ইচ্ছের ওপর দোদুল্যমান। আর মুম্বাইয়ের সাম্প্রতিকতম ঘটনাটা নিশ্চয়ই আপনারা ভোলেননি যখন ওদিকের কিছু হোটেলে হঠাৎ পুলিশি raid হয়ে প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে মেয়েগুলোর স্বাধীনতার বারোটা বাজাল ? অথবা সেই  ছেলেটা বা মেয়েটা যারা ফেসবুকে নিজেদের রাজনৈতিক মতামত খোলাখুলি জানানোর শাস্তিস্বরূপ লক আপে ঢুকতে বাধ্য  হয়েছিল ?

তবে কিসের এই স্বাধীনতা ? খালি পতাকা উত্তোলন করে হাততালি দেওয়ার জন্য ? Tri colour পোশাক পরে উত্তোলিত পতাকার সাথে selfie তোলার জন্য ? নাকি ফেসবুক আর হোয়াটসঅ্যাপে ‘হ্যাপি ইন্ডিপেনডেন্স ডে’ মেসেজের ছয়লাপ বইয়ে দেওয়ার জন্য ? যেদিন ট্রাফিক সিগন্যালে কোন অর্ধভুক্ত বাচ্চা ছেলেকে আর তেরঙ্গা পতাকা বিক্রি করতে দেখবনা, সেদিন বুঝব দেশ স্বাধীন হয়েছে।

Advertisements
Standard

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s