Uncategorized

Kids with special needs আর কিছু কথা।

কয়েকদিন হল একটা পোস্ট দেখছি ফেসবুকে ঘুরছে, মূল বক্তব্য Kids with special needs বাচ্চাদের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ করা উচিৎ। ব্যাপারটাকে নিশ্চয়ই সমর্থন করি, পোস্টের সাথে জড়িত লেখক বা লেখিকার আবেগটাও বুঝছি কিন্তু একটা সমস্যা আছে, আর সেটা যেহেতু এখানে বাচ্চারা জড়িত।

বাচ্চারা ছোট; পৃথিবীতে তাদের আবির্ভাব মাত্র কয়েকটা বছর। এসব জটিলতা বোঝা তাদের পক্ষে দুরূহ। ‘Kids with special needs’ কথাটার তাৎপর্য বুঝতে গেলে আরেকটু বড় হতে হবে ওদের, অন্ততপক্ষে কৈশোর। নইলে যে বাচ্চা ছেলেটা বা মেয়েটা তাদের মত কথা বলতে/খেলতে বা চলতে ফিরতে পারছেনা, তদুপরি মুখ দিয়ে লালা গড়াচ্ছে বা ঘাড় বেঁকিয়ে দেখছে ইত্যাদি দৃশ্য বাকি বাচ্চাদের কাছে ভালরকম হাসির ব্যাপার কিন্তু। বাচ্চারা একইসাথে কখনও নিষ্পাপ কখনও insensitive. তাই হঠাৎ করে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে kids with special needs দের ডাকলে হিতে বিপরীত হতে পারে। হয়তো তার সামনে গিয়েই হাসাহাসি চলল। আর এই জিনিসটা যদি kids with special needs-এর বাবা মার সামনে ঘটে তাহলে তাঁদের কতটা কষ্ট হতে পারে সেটা সহজেই অনুমেয়।

আমার নিজেরই অভিজ্ঞতা আছে একটা দুটো। ছোটবেলায় যখন মনে হয় ক্লাস টু বা থ্রিতে পড়ি আমার পাড়ার এক বান্ধবীর বাড়ি খেলতে যেতাম। রান্না বাটি আর পুতুল নিয়ে গড়পড়তা মেয়েলি খেলা। সেই খেলায় একদিন নতুন রঙ লাগল যখন বান্ধবীর অপ্রকৃতিস্হ (mentally challenged) মামা তার বাড়ি বেড়াতে আসল। পরিষ্কার মনে আছে আমরা দুই বান্ধবী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতাম কখন কাকিমা (বান্ধবীটির মা) ঘর থেকে বেরোবেন আর আমরা গিয়ে মামাকে ভ্যাঙাব, গায়ে ধাক্কা দেব বা বিভিন্ন ভাবে বিরক্ত করব যাতে রেগে গিয়ে মামাটি আরও মুখ চোখ বাঁকিয়ে আস্ফালন করেন। বড় মোটা ফ্রেমের চশমা পড়া থাকত ছেলেটির, চোখেও মনে হয় কম দেখতেন আর তাই আমাদের দ্বিগুণ আনন্দ। মোটা চশমায় আলোর refraction-এ আরও গোল্লা গোল্লা অস্বাভাবিক দেখাত চোখের মণি। মামা চলাফেরা করতে পারতেন না। খাটে চুপ করে বসে থাকতেন আর আমরা কাছে আসলেই ঘাবড়ে যেতেন। ভয় পেয়ে নানারকম অঙ্গভঙ্গী করতেন, চাইতেন যত শীঘ্র সম্ভব আমরা চলে যাই। আমরা যেতাম না যতক্ষণ না পর্যন্ত কাকিমা কোন কাজে আশেপাশে চলে আসতেন হঠাৎ। এত মজাদার live entertainment তখন আমাদের কাছে ঢের ভালো পুতুল খেলার চেয়ে। বাড়ি ফিরে মার কাছে হতাশ আমি বলতাম “আমার একটাও এরকম মামা নেই কেন ?” মা আবার এমনিতেই খুব ভালোবাসেন তাঁর ভাইদের। আমার বোকা বোকা প্রশ্ন শুনে মারাত্মক রেগে গিয়ে বলতেন “ভাই abnormal হওয়ার দরকার কি আমার ? তুই নিজেই তো অ্যাবনর্মাল আছিস।”

কিছু বছর পরে যখন আরেকটু বড় হলাম ‘kids with special needs’ মানে বুঝলাম। নিজেদের ভুল বুঝলাম। লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে গেল। কিন্তু ভুল সংশোধন করতে পারিনি। মামা তখন পৃথিবী থেকে অনেক দূরে তারাদের মধ্যে।

সুতরাং উদ্দেশ্য প্রশংসনীয় হলেও বাস্তবে কষ্ট বাড়তে পারে বাচ্চাটার উপরোক্ত কারণে। একটাই রাস্তা আছে মনে হয় যদি রোজ রোজ বাচ্চাটা আর পাঁচটা স্বাভাবিক বাচ্চার সাথে খেলাধূলো বা মেলামেশা করার সুযোগ পায়। সেখানেও শুরুতে গ্রহণযোগ্যতা আসবেনা, কিন্তু সংবেদনশীল অভিভাবকদের তত্ত্বাবধানে আস্তে আস্তে জট খুলবে নিশ্চয়ই। কোন না কোন সময়।221258_219439124733847_6648359_o.jpg

Advertisements
Standard

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s