Uncategorized

Pets..

পশুপাখীর প্রতি সব মানুষের সমান ভালোবাসা থাকবে এমন অস্বাভাবিক আশা আমি স্বাভাবিকভাবেই করিনা। কিন্তু আমরা মানুষেরা সবার আগে একটা প্রাণ তো। একই কোষ, মাইটোকনড্রিয়া, রাইবোজোম আমাদের শরীরেও জন্মাচ্ছে মরছে। তাহলে অন্য একটা না-মানুষ প্রাণের ওপর এতটা বিরাগ কিকরে আসে যে বিড়াল কুকুর ইত্যাদি পোষাকে কিছু কিছু মানুষ উদ্ভট শখ বলে ভাবে ? অথচ সেই মানুষগুলোই কিন্তু বাড়িতে দিব্যি গাছপালা পোষেন। গাছের তো আর কোন বায়নাক্কা নেই। খাবার দিতে হয়না, মল মূত্র প্রভৃতি পরিষ্কার করার মত ফালতু কাজ করতে হয়না, জল-সার ইত্যাদি না দিলেও ম্যাও ম্যাও বা ঘেউ ঘেউ করে শব্দ দূষণ করেনা, অতএব গাছ যতখুশী পোষা যায়।

প্রত্যেক মানুষের আলাদা আলাদা পছন্দ অপছন্দ থাকে, কিন্তু নিজের preference যারা জোর করে অন্যের ওপর চালিয়ে ঠিক ভুলের সংজ্ঞা বানাতে চান তাঁদের বুদ্ধির প্রাচুর্য দেখে বিস্মিত হই কারণ পৃথিবীতে পুরোপুরি ঠিক ভুল বলে কিছু নেই। সবটাই perspective-এর ব্যাপার। সময়ের ব্যাপার। প্রাচীন মিশরে বিড়ালকে লোকে দেবতাজ্ঞানে পূজো করত। ঈজিপ্টে যখন গেছিলাম দেখেছিলাম লোকজন এখনও কত ভালোবাসে বিড়ালকে। মিউজিয়ামে মূর্তি বানিয়ে রাখা। প্যাঁচা তো লক্ষ্মীঠাকরুণের বাহন, যেমন ইঁদুর গণেশের। হাঁসের মাংস খেতে যাদের জিভ লকলক করে তাঁরাই কিন্তু সরস্বতী পূজার দিন ছেলেমেয়েকে ‘বিদ্যে দাও বুদ্ধি দাও’ কলাপাতায় লিখিয়ে পুকুরের জলে পাতা ভাসান। মন্দিরে মন্দিরে মোটা টাকা প্রণামী আর ঘন্টা বাজিয়ে কিছু সংস্কৃত মন্ত্রর মানে বুঝে হোক, না বুঝে হোক আউরে পুণ্য করার আত্মপ্রসাদ পাওয়া যায় ঠিকই কিন্তু সেই সরল সমীকরণ যা ছোটবেলায় পড়েছিলাম বিবেকানন্দের বইয়ে সেটা মিথ্যে হয়ে যায়না – “বহুরূপে সন্মুখে তোমার, ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর ? জীবে প্রেম করে যেই জন সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।”

7dd84d70-768b-492b-88f7-a6c70f2db2e9
Advertisements
Standard

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s